বাঙালির প্রাণের উৎসব আজ

0
49

আজ বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব পহেলা বৈশাখ । হাজারো প্রাণের মেলবন্ধন হবে এই বৈশাখের আয়োজনে। ঘরে ঘরে থাকবে বাঙালিয়ানার সব আয়োজন। এক মোহনায় সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলবে । সাথে গাইতে থাকবে অসাম্প্রদায়িক চেতনার গান।

নতুন শুরুর প্রত্যয়ে সবাই গেয়ে উঠবে, ‘যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে-যাওয়া গীতি, অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক, মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’

বাঙালির জীবনে এক নতুন দিন আজ, নতুন বারতা। আজকের সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে সূচনা হয়েছে বাংলা ১৪২৬ সালের। এলো পহেলা বৈশাখ। বাংলার ঘরে ঘরে আজ চলছে উৎসব।

সব জনপদ, সমতলে, লোকালয়,পাহাড়ে বর্ণিল রঙে রাঙাবে নতুন বাংলা। প্রাণে প্রাণ মিলিয়ে মেতে উঠবে বৈশাখী উল্লাসে।

মুড়ি মুড়কি, মণ্ডা মিঠাইয়ের সঙ্গে নাচে-গানে, ঢাকে-ঢোলে, শোভাযাত্রায় পুরো জাতি বরণ করছে নতুন বছরকে।

বৈশাখে যেসব জায়গায় এখনও হালখাতার ঐতিহ্য রয়েছে সেখানে আজ খোলা হবে নতুন বছরের নতুন খাতা। চলবে মিষ্টিমুখ। আর নববর্ষের নাগরিক ঐতিহ্যের দান পান্তা-ইলিশ খাওয়ার উৎসবে মাতবেন অনেকে। বাঙালির নববর্ষ আজ।

সব গ্লানি মুছে নবোদ্যমে শুরু হবে নতুন করে পথচলা। বাঙালি স্বাগত জানাবে ১৪২৬ সালকে। শুভেচ্ছা জানাবে- ‘শুভ নববর্ষ’ বলে। প্রকৃতির শাশ্বত নিয়মেই পুরাতনের বিদায়, আর অপরদিকে ঘোষিত হয় নতুনের আগমন।

প্রাত্যহিকতার সব জীর্ণ ও পুরাতনকে ফেলে রেখে নবসূর্যের উত্তাপ নিয়ে ১৪২৬ আসুক প্রাণের আশীর্বাদ হয়ে, এমনটাই প্রত্যাশা করছে সবাই । সেই প্রত্যাশা করার জায়গাটা থেকেই বাংলা সন বাঙালির নিজস্ব ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।

বাঙালির বর্ষবরণ মানেই হল ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজন। আজ সামাজিক সব অনাচারের বিরুদ্ধে মানুষের মনে শুভবোধ জাগিয়ে তোলার মানস নিয়ে ১৪২৬ বঙ্গাব্দকে বরণ করছে ছায়ানট।

অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভবোধ- এ আহ্বান নিয়ে রমনার বটমূলের প্রভাতী আয়োজন সাজানো হয়েছে। যথারীতি ভোর সোয়া ৬টায় বছরের প্রথম সূর্যোদয়কে স্বাগত জানানো হয় লাল গোলাপ দিয়ে। প্রত্যুষে থাকছে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা এবং সৃষ্টির মাহাত্ম্য নিয়ে ভোরের সুরে বাঁধা গানের গুচ্ছ ।

এদিকে থাকছে অনাচারকে প্রতিহত করা এবং অশুভকে জয় করার জাগরণী সুরবাণী, গান-পাঠ-আবৃত্তিতে দেশ-মানুষ-মনুষ্যত্বকে ভালোবাসার প্রত্যয়। বর্ষবরণ ১৪২৬ সরাসরি সম্প্রচার করছে বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতার।

শিক্ষার্থী-প্রাক্তনী-শিক্ষক নিয়ে, ছোটবড় মিলিয়ে এবারের অনুষ্ঠানে সম্মেলক গান পরিবেশন করবেন শত শত শিল্পী। অনুষ্ঠানে থাকছে ১৩টি একক এবং ১৩টি সম্মেলক গান এবং ২টি আবৃত্তি।

ছায়ানটের আহ্বান অনুযায়ী রবীন্দ্র রচনা থেকে বেছে নেয়া হয়েছে দুটি আবৃত্তি। একই ধারায় গানগুলো নির্বাচন করা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম, রজনীকান্ত সেন, অতুলপ্রসাদ সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়,মুকুন্দ দাস, অজয় ভট্টাচার্য, লালন শাহ, শাহ আবদুল করিম, কুটি মনসুর, সলিল চৌধুরী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা থেকে।

রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল সোনারগাঁও, ওয়েস্টিন, র‌্যাডিসন, ঢাকা রিজেন্সি, খাজানাসহ হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোর উদ্যোগে উদযাপিত হচ্ছে নতুন বছরের উৎসব। এছাড়াও পহেলা বৈশাখ উদযাপন করছে ঢাকা ক্লাব, উত্তরা ক্লাবও, গুলশান ক্লাব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here