চার ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ছাড়ছে ট্রেন, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

0
39

ঈদ উপলক্ষে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন সড়ক এবং নৌপথের যাত্রীরা। পাঁচটি ট্রেন আধ ঘণ্টা থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ছাড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে ট্রেনযাত্রীরা। তবে ট্রেনের পরিস্থিতি শুক্রবারের চেয়ে শনিবার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সড়ক, রেল, নৌ ও বিমান পথে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ গ্রামে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকা ফাঁকা হতে শুরু করে ।

যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলেন, যানজট না থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন সড়ক পথের যাত্রীরা। সড়ক-মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটে গাড়ির দীর্ঘ সিরিয়াল নেই। ফলে কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যেই যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছেন। অপরদিকে প্রায় একই চিত্র দক্ষিণাঞ্চলের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ঢাকা নদী বন্দরেও (সদরঘাট)। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যাত্রী সংখ্যা বাড়লেও তা রয়েছে সহনীয় পর্যায়ে। আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে লঞ্চের সংখ্যাও। তিন দিন ধরে প্রায় একশ’ লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে।

ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে রয়েছে কিছুটা অসন্তোষ। তারা বলেন, ট্রেন দেরিতে ছাড়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এবার ট্রেনের ছাদে যাত্রী উঠার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। শনিবার অনেক যাত্রীকে ছাদ থেকে নামিয়ে দিতে দেখা যায়।

সড়ক পথের ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে শনিবার রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে যান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেখানে যাত্রীদের কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানান তিনি । এবার ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে জানিয়ে মন্ত্রী জানান, সারা দেশে সড়ক পথে সব রুট যানজটমুক্ত এবং নিরাপদ যাত্রা অব্যাহত আছে। এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার রাতভর ভারি বৃষ্টিপাতে টঙ্গী-গাজীপুর রুটে কিছুটা যানজট হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এ সড়কে যানজট স্বাভাবিক রয়েছে। যানজট নেই, জনগণের ভোগান্তি নেই। তিনি বলেন, আমি যাত্রীদের সঙ্গে বাস ভাড়ার বিষয়ে কথা বলেছি। কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। কোনো অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সড়কে চাঁদাবাজি বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির ব্যাপারেও সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ নেই। ঈদ পর্যন্ত স্বস্তিদায়ক যাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং ঈদের পরও কর্মমুখী মানুষের যাত্রা ভালো থাকবে।

জানা যায়, শনিবার দিনভর চাপ থাকলেও বঙ্গবন্ধু সেতুতে গাড়ির জট ছিল না। মহাসড়কের মির্জাপুরের গোড়াই থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নির্মাণাধীন যেসব আন্ডারপাসে যানজট হতে পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান জানান, ব্যবস্থাপনা ভালো রয়েছে। গাড়ি আসামাত্রই ফেরিতে উঠতে পারছে। এ ঘাটে যানজট এড়াতে ডিভাইডার তৈরিসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ।

উত্তরাঞ্চলসহ কয়েকটি জেলার সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন কাজ চলায় এবং কোথাও কোথাও ভাঙাচোরা রাস্তা হওয়ায় অনেক যাত্রীর পছন্দ ট্রেন। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন শনিবার ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী, মহানগর গোধূলী ও খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দেরিতে ছেড়েছে। সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেন ছাড়তে দেরি করায় তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ স্টেশনের ভিআইপিদের জন্য টয়লেট থাকলেও সাধারণ যাত্রীদের জন্য নেই। ফলে বিলম্বে আসা ট্রেনের যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। তারা বলেন, নীলসাগর এক্সপ্রেসের ট্রেনটি সকাল ৮টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে তিন ঘণ্টা দেরিতে সাড়ে ১১টার দিকে ছেড়ে যায়। রংপুর এক্সপ্রেস সোয়া এক ঘণ্টা দেরি করে কমলাপুর ছেড়ে যায়। এছাড়া বাকি ট্রেনগুলো ৩০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর ছাড়ে।

শুক্রবার রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ৮ ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে। ওই ট্রেনটি রংপুর থেকে ছেড়ে শনিবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে আসার কথাও থাকলেও আসেনি। পরে রেলপথমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিকল্প একটি ইঞ্জিন দিয়ে শনিবার সকাল ১০টার দিকে কমলাপুর থেকে ট্রেনটি রংপুরের উদ্দেশে ছাড়া হয়। ফলে ট্রেনের আসন বিন্যাসেও আনা হয় পরিবর্তন। আর এতে চরম বিড়ম্বনা এবং দুর্ভোগের শিকার যাত্রীরা।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক জুয়েল বলেন, রংপুর এক্সপ্রেস বিলম্বে চলাচল করায় শনিবার বিকল্পভাবে ট্রেন চালানো হয়েছে। এতে আসন সংখ্যায় কিছুটা সমস্যা হলেও যাত্রীরা খুশি ছিলেন। তিনি বলেন, শনিবার সারা দিন ৫২টি ট্রেন কমলাপুর থেকে ছেড়ে গেছে। এরমধ্যে ৫টি ট্রেন বিলম্বে চলেছে। এটাকে শিডিউল বিপর্যয় বলছি না। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ট্রেন ধীর গতিতে চালাতে গিয়ে কিছুটা বিলম্বে চলেছে কয়েকটি ট্রেন। এদিকে শনিবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন তাদের নামিয়ে দেন। যারা বিনা টিকিটি ছিলেন তাদের আটক করা হয়। ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াছিন ফারুকী জানান, রেলপথমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ রয়েছে এবার কোনো ট্রেনের ছাদে যাতে কোনো যাত্রী না উঠতে পারে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা ছাদে উঠতে চাইবে তাদের রোধ করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ছাদে উঠে ভ্রমণের সময় আনন্দের ঈদযাত্রাটাই মাটি হয়ে যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here