দেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কা

0
104

বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্বাঞ্চল এবং মিয়ানমারের কিছু অংশে প্রচণ্ড শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে । ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলটির বিস্তার প্রায় ২৪ হাজার বর্গকিলোমিটার। এতে প্রায় ১৪ কোটি মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রায় ১২ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের একদল বিজ্ঞানী গবেষণা করে এ তথ্য পান। তাঁদের গবেষণা প্রতিবেদনটি নেচার জিওসায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশ হয়। গবেষকদের মতে, বাংলাদেশসহ ভারত ও মিয়ানমারের কিছু অংশজুড়ে একটি সুবিশাল চ্যুতির (ফল্ট) অবস্থানের কারণে এই এলাকায় রিখটার স্কেলে ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। এ রকম দুর্যোগে ঢাকাসহ বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ফল্ট এলাকার আশপাশের ১০০ কিলোমিটার এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রতিবেদনে বলেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেন।

নেচার জিওসায়েন্স-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি। জলমগ্ন এই নিম্নাঞ্চলে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র এক হয়ে বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ গঠন করে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে। এই যৌথ নদীপ্রবাহে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পলিমাটি জমে। নিরবচ্ছিন্ন এই পলি-স্তূপের কারণে গাঙ্গেয় বদ্বীপের নিচের ভূপ্রকৃতি ব্যতিক্রমী ধরনের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, পললভূমির নিচে অবস্থিত টেকটোনিক প্লেটগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ হয়ে থাকে।

ভূত্বকের নিচের অবস্থা জানতে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূপদার্থবিদ মাইকেল স্টেকলারের নেতৃত্বে গবেষক দল বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অতি-সংবেদনশীল বেশ কিছু জিপিএস যন্ত্র স্থাপন করে। ২০০৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ওই গবেষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকও অংশ নেন। প্রতিবেশী দেশ
ভারত ও মিয়ানমারেও এ রকম কিছু যন্ত্র বসিয়ে সমগ্র ফল্ট অঞ্চলের একটি মানচিত্র তৈরি করা হয়। গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমসের (জিপিএস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি টেকটোনিক প্লেট আরেকটির নিচের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আর সেগুলোর অবস্থান বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও পূর্ব ভারতজুড়ে বিস্তৃত একটি অঞ্চলের নিচে। ফল্টের ওপরের স্তরে দুটি প্লেট পরস্পর লেগে আছে। এই সৃষ্ট চাপের প্রভাবে প্রচণ্ড শক্তিশালী ভূকম্পন হবে।

স্টেকলার বলেছেন, বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে নানা সমস্যা ধরা পড়েছে। সেখানে বালু ভরাট করে ২০ তলা ভবন নির্মাণ করতেও দেখা যায়। ভূমিকম্প হলে এ রকম ভবন সহজেই ধসে পড়বে। এ ছাড়া অতিরিক্ত জনবহুল হওয়ায় সেখানে ভূমিকম্প হলে প্রাথমিক উদ্ধার তৎপরতায় বিঘ্ন হতে পারে। এখন স্বাভাবিক অবস্থায়ই ঢাকা শহরে যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানকার রাস্তায় যদি ভূমিকম্পের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে, ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো এবং উদ্ধার তৎপরতা চালানো সত্যিই অসম্ভব কাজ হবে। তবে এই ভূমিকম্প ঠিক কখন হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এটা আগামীকালই হতে পারে, আবার ৫০০ বছর পরেও হতে পারে।

গবেষণাপত্রটি আরও বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ভবন ছাড়াও ভূমিকম্পে ভারী শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রগুলো ধ্বংস হতে পারে।

গবেষক দলের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ১৯ কিলোমিটার গভীর পলি জমে বাংলাদেশের যে ভূখণ্ড তৈরি হয়, তা সেই ভূমিকম্পের প্রভাবে কেঁপে উঠতে পারে এবং এর প্রভাবে বিভিন্ন জায়গা তরলে পরিণত হতে পারে। এতে সেখানকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট এবং লোকজন তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নেপালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ২০১৫ সালের এপ্রিলে যখন আঘাত হানে, বাংলাদেশে তখন কয়েকটি ভবন হেলে পড়ে এবং ফাটল ধরে। এসময় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়। আতঙ্ক, হৃদ্রোগ ও পদদলনই তাঁদের মৃত্যুর কারণ। গত বছরের ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here