যানবাহন চলাচল বন্ধ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে

0
53

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শাহবাজপুরে তিতাস সেতুর রেলিং ভেঙে পড়ায় ছয়দিন ধরে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে নামিদামি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়ে। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলাসহ জেলায় শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য ডেলিভারিও বন্ধ হয়ে যায় ।

এছাড়া সময়মতো কাঁচামাল না পৌঁছানোয় অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কমে গেছে। নির্মাণসামগ্রী বালু, রড, সিমেন্ট না পৌঁছানোর কারনে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ আটকে গেছে। এদিকে মহাসড়কের দুই পাড়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক অবস্থান করায় নষ্ট হচ্ছে অনেক কাঁচামাল । আবার বিকল্প পথে যানবাহন চলাচল করায় রাতে ডাকাতের হামলার শিকার হচ্ছেন যানবাহন চালক ও হেলপাররা ।

মঙ্গলবার সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে সিলেটের সব ধরনের যানবাহনের সরাসরি চলাচল বন্ধ হয়। এরপর শুক্রবার পর্যন্ত বিকল্প পথে ঢাকায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করলেও শনিবার থেকে সব পরিবহন বন্ধ রয়েছে। ছোটখাটো যানবাহন স্বল্প পরিসরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলাচল করলেও চরম দুর্ভোগে পরেন যাত্রীরা। এ কারণে সিলেট-ঢাকা লাইনে বিশেষ ট্রেন চালু করার দাবি উঠেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন বলেছেন, শনিবার দুপুর থেকে শাহবাজপুরে তিতাস সেতুর সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। যাত্রী নামিয়ে খালি যানবাহন পারাপারে সেতুটি উপযোগী করতে আরও দুই থেকে তিনদিন সময় লাগতে পারে। সিলেট পরিবহন মালিক সমিতির নেতা আবুল কালাম যুগান্তরকে জানান, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক এখন অচল। ফলে বেশির ভাগ পরিবহন যাত্রীসেবা বন্ধ রেখেছে। ভেঙে পড়া সেতুর সংস্কার কাজে আরও এক সপ্তাহ লাগতে পারে বলে জানান তিনি। পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক বলেন, সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা যাত্রীসেবা দিতে পারছেন না।

চুনারুঘাটের বাসিন্দা সৈয়দা ইছমা খাতুন বলেছেন, বহু চেষ্টা করে তার একটি এনজিওতে চাকরি হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকায় তাকে যোগদান করতে হবে। তাই বিকল্প পথে তাকে ঢাকায় যেতে হচ্ছে। তাকে তিনগুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সময় লাগছে চার ঘণ্টার পরিবর্তে ১৩ ঘণ্টা। এ রকম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সিলেট অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।

বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর-সরাইল ও হবিগঞ্জের লাখাই-হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়ক ব্যবহার করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে সব যানবাহন চলাচল করলেও যানজটের কারণে বিড়ম্বনার শেষ নেই। ট্রাক ও ভারি যানবাহান চলাচল বন্ধ পুরোপুরি। শত শত পণ্যবাহী ট্রাক অবস্থান করছে মহাসড়কের দুই পাড়ে। নষ্ট হচ্ছে ট্রাকবোঝাই কাঁচামাল। রোববার বিকালে সেতুর দুই পাশে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মালবোঝাই ট্রাক আটকে থাকতে দেখা যায়। গাড়িচালকরা জানান, ভয়ংকর জায়গায় তারা আটকা পড়েছেন। রাতে ডাকাতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গ্রাম থেকে ডাকাতরা উঠে আসে বলে তাদের অভিযোগ। এ কারণে সারা রাত জেগে থাকতে হয়। পুলিশ চলে গেলে আবার ডাকাতদের আনাগোনা শুরু হয়ে যায় ।

সাতক্ষীরার চালক আলীম মিয়া বলেছেন, ডাকাতরা তার সব কিছু কেড়ে নিয়েছে। তার কাছে এখন খাবারের টাকাও নেই। ট্রাকচালক ও হেলপাররা যুগান্তরকে জানান, দেড়-দুই হাজার করে টাকা নিয়ে ভাঙা ব্রিজের এক পাশের ওই বেইলি ব্রিজ দিয়ে মালবোঝাই ট্রাক চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে পুলিশ। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হোসেন সরকার বলেন, সারা রাত তারা সেতুতে অবস্থান করেন। সেতুর উপর দিয়ে কোনো গাড়ি যেতে দেয়া হয় না। এদিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় হেঁটেই চলছে মানুষ। কিছুদূর হেঁটে আবার কিছু দূর যানবাহনে করে চলছে মানুষ।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুতে কমেছে রাজস্ব আদায় : বিকল্প সড়ক চালু থাকলেও যানজটসহ নানা কারণে যাত্রী পারাপার কমে যাওয়ায় মেঘনা নদীর উপর নির্মিত সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতুর টোল আদায় কমে গেছে। দৈনিক কমপক্ষে ৪-৫ লাখ টাকা টোল আদায় কম হচ্ছে। এ ব্যাপারে টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠান সিএনএস কর্তৃপক্ষের সহকারী ম্যানেজার মো. জয়নাল আবেদিন বলেছেন, শাহবাজপুরের সেতুতে সমস্যা থাকায় অন্য সময়ের তুলনায় যানবাহন চলাচল একেবারেই কম হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি সেতুর সংস্কার ও মেরামত কাজ শেষ পর্যায়ে। এখান দু’পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সংস্কার কাজে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রকৌশলী বলেন, আপাতত এ বেইলি সেতু দিয়ে ভারি যানবাহন কোনোভাবেই চলাচল সম্ভব না। বাস পার হলেও যাত্রী নামিয়ে পার হতে হবে। তবে ভারি যানবাহনের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তাদের বিকল্প পথে চলাচলের কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সেতুতে স্টিলের অংশগুলো লাগানো প্রায় শেষ পর্যায়ে। সোমবার দুপুরের দিকে পরীক্ষামূলকভাবে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু হতে পারে। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, রবিবার রাতেই সেতুটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here