তিস্তার পানির অভাবে মানুষের হাহাকার

0
81

নীলফামারী জেলার মানুষ বারো মাস মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তিন-চার মাস নদীতে পানি থাকে না। তাই ওই সময়টাতে মাছ শিকার করার নেই কোনো উপায় । মানুষ বলছে সরকারের কাছ থাকি কোনো দিন কিছুই পাই নাই।  দুই বছর আগোত সরকার কার্ড  করে দেছে । যে তিন-চাইর মাস মাছ ধরা বন্ধ ।

তিস্তা নদীর ব্যারাজের উজানের অংশে সামান্য পরিমান পানি আছে। ব্যারাজের ভাটিতে নেই কোন পানি । ব্যারাজসংলগ্ন একটি বড় পুকুরের সমান জায়গায় অল্প কিছু পানি জমে আছে। সেখানে আছে অনেকগুলো নৌকা। জেলে-মাঝিদের জীবনও যেন পানিতে জিইয়ে না রাখলে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন।

বেশ কয়েকজন মানুষ একটি জাল মেরামত করছিলেন। এগিয়ে গেলাম সেখানে। সবাই তাঁরা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানি মৎস্য চাষি সমিতির সদস্য। ২২ জন সদস্য একসঙ্গে মাছ ধরেন আছসে । পাশেই একটি বাঁশের বেড়া ও ছাউনির খুব নিচু একটি চালা তৈরি করা হয়েছে। সেই চালায় তাঁরা রাত কাটান এবং ওই পুকুরসমান জলাধারে মাছ ধরেন।

সমিতির সভাপতি রজব আলী জানান ২৪ ঘণ্টা মাছ ধরি একজনের ভাগোত দেড় শ-দুই শ টাকা আসে । আমাদের জীবন খুব কষ্টের। এই অল্প কিছু টাকা দিয়া কি সংসার চলে না ।

পাশেই আরেকজন জেলে বলছে ব্যারাজ দেওয়ায় ভাটিত পানির অভাব দেখা দিছে। পানির অভাবে আর চাষবাস হয় না। ব্যারেজের উজানোত উপকার হইলেও ভাটিত তার চেয়ে ক্ষতি বেশি। একজন অভিযোগ করছে , তাঁদের ভাতার কার্ড দেওয়া হলোও ভাতার কোনো টাকা দেওয়া হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here