দেশে ৭ লাখ কোটির বেশি কালো টাকা

0
47

বর্তমানে দেশে এখনও ৭ লাখ কোটির বেশি কালো টাকা আছে। যা দুটি বাজেটের সমান। অন্যদিকে প্রতিবছর দেশ থেকে ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই কালো টাকা দেশের অর্থনীতিতে আনা এবং পাচার রোধে আগামী বাজেটে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে । জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এনবিআর সাথে প্রাক-বাজেট আলোচনায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত একথা জানান ।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়ার ।  এছাড়াও এসভায় এনবিআরের একাধিক সদস্য এবং অর্থনীতিবিদ ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিকালে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) প্রতিনিধিরা প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন । সেখানে বক্তারা বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কর কাঠামোয় পরিবর্তনসহ নানা রকম দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

আবুল বারকাত জানান , বর্তমানে দেশে ৭ লাখ কোটির বেশি কালো টাকা রয়েছে । যা সরকারের দুটি অর্থবছরের বাজেটের সমান। এ টাকা দিয়ে সরকার দুটি অর্থবছরের বাজেট পরিচালনা করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, সব কালো টাকা উদ্ধার করে, এক সাথে অর্থনীতির মূলস্রোতে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু কীভাবে অর্থনীতিতে আনা যায় বাজেটে তার একটি পরিকল্পনা থাকা দরকার। আসছে বাজেটে অন্তত ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকা যেন উদ্ধার করা যায়, সেই প্রণোদনা থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি ।

আবুল বারকাত আরও বলেন, প্রতিবছর ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। তা রোধ করার জন্য বাজেটে সুস্পষ্ট উদ্যোগ রাখা দরকার। এ ছাড়াও মাদক এবং চোরাচালানের বিষয়ে গুরুত্বারোপের সময় এসেছে ।

অন্যদিকে ফিকির অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান , আমাদের দেশের শেয়ারবাজার এবং বন্ডের বাজারের বিনিয়োগ কারীদের আরও বেশি প্রশিক্ষণ দেয়া জরুরি। কারণ বিনিয়োগ কারীদের ফটকা ব্যবসায় অনেক বিশ্বাসী। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এতে তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হন। শেয়ারবাজার নিয়ে কেউ একটি কথা বললে পরের দিন বাজারে এর প্রভাব পড়ে বলে মনে করেন তিনি।

মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া জানান , বাজারে গ্রামীণফোন একটি বড় স্টকহোল্ডার। তবে দেশে আরও কয়েকটি ফোন কোম্পানি রয়েছে। এদেরও কীভাবে কর ছাড় সুবিধা দেয়া যায়, সে বিষয় নিয়ে বিবেচনা করা হবে। আমরা চাই অন্যদের ব্যবসাও বাড়ুক । তা না হলে গ্রামীণফোনের আধিপত্য আরও বেড়ে যাবে ।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, আগামী বাজেটে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক শুল্ক এবং সম্পূরক শুল্কের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে এনবিআর । কারণ দেশে সরকার পণ্যের ব্যবহার আরও বাড়াতে চায়। তার মতে, পণ্যের ব্যবহার কমলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here