জেনে নিন, প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি

0
73

এমন এক সময় ছিল যখন কোন জন্মনিয়ন্ত্রনের জন্য কৃত্রিম পদ্ধতি ছিল না। তবুও দেখা গেছে মানুষ বিভিন্ন প্রাকৃতিক পন্থায় জন্মনিয়ন্ত্রন করতো । আর এখন যদিও জন্মনিয়ন্ত্রনের জন্য অনেক কৃত্রিম পদ্ধতি আছে তারপরেও বিশ্বজুড়ে অনেক দম্পতি প্রাকৃতিক উপায়েই জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন । আর আজ জানাবো আপনাদের এসব পদ্ধতির বিস্তারিত বিষয় গুলো ।

১। ক্যালেন্ডার পদ্ধতি অথবা সেইফ পিরিয়ড মেথডঃ

সাধারণত মাসিক শুরু হওয়ার আগের নয়দিন এবং মাসিক হওয়ার পরবর্তী চারদিন নিরাপদ সময় হিসেবে বিবেচিত হয় । এই সময়ে দৈহিক মিলন হলে গর্ভধারণের কোনো ঝুঁকি থাকে না । এই মাসিক শুরুর আগের নয়দিন এবং মাসিকের পরবর্তী চারদিনই সেফ পিরিয়ড বা নিরাপদ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। এটা হিসেব করেও এটি বের করা যায় । যদি ২৮ দিন পরপর আপনার নিয়মিত মাসিক হয় তাহলে ২৮ থেকে প্রথমে ১৮ এবং পরে ১০ বাদ দিন (২৮-১৮=১০ এবং ২৮-১০=১৮) । অর্থাৎ মাসিক শুরু হওয়ার দিন থেকে নবম দিন পর্যন্ত আপনি নিরাপদ অন্যদিকে দশম দিন থেকে ১৮তম দিন পর্যন্ত আপনি ঝুঁকিপূর্ণ এবং আবার ১৯তম দিন থেকে ২৮তম দিন পর্যন্ত আপনি নিরাপদ থাকবেন । অনেকের অনিয়মিত মাসিক হয় । মনে করেন কোনো মাসে ৪৫ দিন পর এবং অন্যকোন মাসে ২৬ দিন পর হয়। তবে সে ক্ষেত্রে ৪৫ থেকে ১০ বাদ দিন (৪৫-১০=৩৫) এবং ২৬ থেকে ১৮ বাদ দিন (২৬-১৮=৮) অর্থাৎ মাসিক চক্রের অষ্টম দিন থেকে ৩৫তম দিন পর্যন্ত আপনি ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন ।এবং বাকি সময় মোটামুটি নিরাপদ থাকবেন ।

২। দৈহিক তাপমাত্রা মেপে:

অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের দৈহিক তাপমাত্রা মেপে এই নিরাপদ সময় বের করা হয়ে থাকে । এর জন্য ভোরবেলা বিছানা ত্যাগের আগ মুহূর্তে মহিলাদের দৈহিক তাপমাত্রা রেকর্ড করে এসময় বের করা হয় । এটা সাধারনত কিছু খাওয়ারবা পান করার আগেই করতে হয় । তবে প্রতিদিন একই সময়ে করতে পারলে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় । মাসিক চক্রের প্রথমার্ধে সাধারনত তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে। এবং পরে আস্তে আস্তে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে । তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ০.২ থেকে ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে । সাধারনত ডিম্বাণু পরিস্ফুটনের সময় এই তাপমাত্রা সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পায়। এ সময়টা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ থাকে । তবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধির তিনদিন পর আবার নিরাপদে দৈহিক মিলন শুরু করতে পারবেন ।

৩। জরায়ু মুখের মিউকাস পরীক্ষার মাধ্যমে

জরায়ু মুখের মিউকাস পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বের করা হয়ে থাকে । এ পদ্ধতিতে একজন মহিলা আঙুলের সাহায্যে তার জরায়ু মুখের মিউকাস বা নিঃসৃত রস পরীক্ষা করতে পারবেন । ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে মিউকাসের পরিমাণ ও ঘনত্ব বেড়ে থাকে। আর সর্বোচ্চ লেভেলে পৌঁছানোর পর আস্তে আস্তে মিউকাসের পরিমাণ ও ঘনত্ব কমতে থাকে । প্রজেস্টেরন হরমোনের প্রভাবে এমনটা হয় এবং মাসিক শুরু না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা বিরাজ করতে থাকে । মিউকাসের ঘনত্ব ও সর্বোচ্চ পরিমাণ লেভেলে পৌঁছানোর চারদিন পর থেকে নিরাপদে দৈহিক সম্পর্ক শুরু করতে পারবেন ।

 (৪) স্তন্যদানের সময়ঃ

সন্তান প্রসবের পর মা যদি বাচ্চাকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ান তবে সেই সময় নিঃসৃত হরমোনের প্রভাবে অনেকদিন মাসিক বন্ধ হয়ে থাকে। এজন্য সে সময়ও জন্মনিয়ন্ত্রক ছাড়া মিলন তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ । কিন্তু এই পদ্ধতি ব্যবহারে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হয় –

  • সন্তান প্রসবের পর কোন মাসিক না হয়ে থাকলে।
  • আপনার সন্তানকে বুকের দুধ এবং শুধু মাত্র বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন কিনা।
  • বাচ্চার বয়স ৬ মাসের কম হলে।

এ পদ্ধতির কার্যকারিতা যদি কমে যায় –

  • শিশুকে বুকের দুধ না খাইয়ে তাকে অন্য খাবার অথবা পানীয় দেন ।
  • সন্তানের বয়স ছয় মাস হলে ।

৫। উইথড্রয়িং মেথডঃ

জন্মনিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে প্রাচীন পদ্ধতি হল এটা । সেক্ষেত্রে স্বামী মূল ভূমিকা পালন করে থাকবেন । এই পদ্ধতিতে শুক্রানু স্খলনের চরম মুহূর্তে স্বামী যদি নিজেকে মিলিত অবস্থা থেকে সরিয়ে ফেলেন যেন নিঃসৃত শুক্রানু বাইরে পরে । তবে এই বিষয়ে খুব সচেতন থাকা উচিৎ ।  কারণ একফোঁটা শুক্রানু ক্ষরণ থেকেও গর্ভধারণ হতে পারে ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here