ডায়াবেটিসের শত্রু আমলকী

0
81

চিকিৎসকগণ আমলকীতে প্রচুর ওষুধি গুণ থাকায় নানা রোগ-ব্যাধির চিকিৎসায় ব্যবহার করে থাকেন। প্রসাধনী সামগ্রী থেকে শুরু করে খাদ্য ও ওষুধ হিসেবে আমাদের জীবনে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আমলকী মিশে আছে।

এটি এমন একটি ঔষুধি ফল। আম অর্থ-সমস্ত; আর লকি (নকি) অর্থ পরিষ্কার করা অর্থাৎ যা দেহ থেকে দূষিত বর্জ্য নিষ্ক্রমণ করে।

আমিষীর খাদ্য পরিপাকের পর তা থেকে সৃষ্ট বর্জ্য উপাদান যথা-ইউরিয়া ও ইউরিক এসিড ইত্যাদি অম্ল পদার্থ দেহের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত বস্তুতে পরিণত হয়। আমলকীর ক্ষারকীয় গুণ এ সকল পদার্থকে নিউট্রাল করে ফেলে। এতে বর্জ্য পদার্থসমূহ দেহের অনিষ্ট করতে পারে না এবং তা সহজে মূত্রপথে বেরিয়ে যায়।

আমলকী মানবদেহের পরিচর্যা করে সুস্থ রাখে। আমলকীর মধ্যে নিহিত ভিটামিন ‘সি’ বা এসকরবিক এসিড চর্মরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

আমলকী যেভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

১. আমলকী শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট যা রক্তে বন্ধনহীন গ্লুকোজ হ্রাস করতে ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লিসারলে রূপান্তরিত হতে পারে না। এতে দেহে অতিরিক্ত চর্বি সঞ্চায়ন অথবা ডিসলিপিডিমিয়ার আশংকা থাকে না। ডায়াবেটিস জনিত উচ্চ রক্তচাপ অথবা হার্ট ব্লকের আশংকা হ্রাস পায়।

২. ডায়াবেটিস রোগে অনেক ক্ষেত্রে কিটোনবডিস বেড়ে যাকে কিটো-এসিডেসিস বলা হয়। এ দ্বারা রক্তে চয-এর মান অস্বাভাবিক হয়ে যায়। এতে রক্তে অম্লত্ব বৃদ্ধি পায়। এটি রক্তে জটিলতা সৃষ্টি করে। আমলকী এই এসিডোসিস অবস্থা নিরসন কল্পে রক্তের ক্ষারধর্মী গুণ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।

৩. আমলকী ও সালাজীত সমন্বয়ে ডায়াবেটিস রোগের কার্যকর ওষুধ তৈরি হচ্ছে।আমলকী যেহেতু মানসম্পন্ন এন্টি-অক্সিডেন্ট। এটা এন্টি-এইজিংও বটে। যা সেবনে মানুষের বার্ধক্য বিলম্বিত হয়ে দীর্ঘায়ু লাভ হয়।

৪. এন্টি-অক্সিডেন্ট এবং এন্টি-এইজিং গুণসম্পন্ন আমলকীতে প্রচুর রোগ প্রতিরোধক অটো-ইমিউন বিদ্যমান।ডায়াবেটিস একটি অটো-ইমিউন ডিজিস। এন্টি-অক্সিডেন্ট পরোক্ষভাবে হাউপোগ্লাইসেমিক ক্রিয়া করে থাকে। তাই এটি ডায়াবেটিস রোগে কার্যকর।

প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক, তিব্বিয়া হাবিবিয়া কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা

সুত্রঃ স্বাস্থ্য টিপস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here