বিজেপি না-করায় মার! পুত্রহারা মায়ের দাবি

0
62

মাস দু’য়েকের ছেলেকে কোলে নিয়ে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন মা। অভিযোগ আসে, তাঁকে মারধর শুরু করেন ভাসুর-ননদরা। আঘাত লাগে শিশুর বুকে। পরে হাসপাতালে মারা যায় সে। শিশুর মায়ের অভিযোগ, উঠোন ঝাঁট দিতে দেরির অজুহাতে মারধর শুরু হলেও এর পিছনে রাজনৈতিক আক্রোশ আছে। পরিবারটি কট্টর বিজেপি সমর্থক। কিন্তু ওই তরুণী এবং তাঁর স্বামী সম্প্রতি যোগ দেন তৃণমূলে। শিশুর মায়ের দাবি, ‘‘মারধরের মূল কারণ, আমার বিজেপিকে সমর্থন না করা।’’

শিখা গঙ্গোপাধ্যায় নামে ওই তরুণী থাকেন অশোকনগর থানার সেনডাঙা এলাকায়। রবিবার তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভাশুর সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেন পুলিশ। শিপ্রা, শর্মা, রিনা মণ্ডল, কমলা গঙ্গোপাধ্যায়, সমাপ্তি গঙ্গোপাধ্যায়  এবং শৌভিক গঙ্গোপাধ্যায় নামে বাকি অভিযুক্তেরা পলাতক বলে জানান পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন, মারধর এবং শিশুকে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।

বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর জানান,  ‘‘তদন্ত শুরু হয়েছে। এক জন গ্রেফতার হয়েছে। বাকিরা পলাতক।’’

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান করেন , পারিবারিক বিবাদের জেরে তরুণীর উপরে বরাবরই নির্যাতন চলত। এ দিকে, ঘটনার কথা জানাজানি হতেই উত্তেজিত তৃণমূলকর্মী-সমর্থকেরা অশোকনগর থানার সামনে জড়ো হন। অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি তোলেন।

স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক ধীমান রায় জানান, ‘‘গত পঞ্চায়েত ভোটে ওই তরুণীকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিজেপির টিকিটে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দিয়েছিল। রাজি হননি উনি। নানা সময়ে বিজেপি করার জন্য চাপ দিত। সে কথা শোনেনি ওই তরুণী। সেই রাগেই মারধর। শিশুটিও চোট পেয়ে মারা গেল।’’ বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের কথায়, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দল এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটাতে পারে, ভাবাই যায় না।’’

শিখা দাবি করেন, ‘‘উঠোন ঝাঁট না দেওয়াটা অজুহাত। আসলে আমরা তৃণমূল করি, সেই রাগেই মারল।’

সুত্রঃ আনন্দবাজার 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here