প্রেগনেন্সি পরীক্ষায় ব্যাঙ!

0
45

বর্তমানে প্রেগনেন্সি পরীক্ষায় জন্য ইউরিন টেস্ট ও প্রেগনেন্সি স্ট্রিক খুবই জনপ্রিয়। এই দুই পদ্ধতিতে দেশে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

প্রেগনেন্সি পরীক্ষায় জন্য জেনোপস নামের একটি ব্যাঙ ব্যবহার করা হতো ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত। এই ব্যাঙটি মূলত আফ্রিকায় সাহারা মরুভূমির আশেপাশের দেশগুলোতে পাওয়া যেত। যা সাব-সাহারান এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ এক জাতের নখওয়ালা ব্যাঙ। এর নাম জেনোপস।

এই এলাকায় লাখ লাখ বছর ধরে শান্তিতেই বাস করছিল জেনোপস নামের এই ব্যাঙ। তবে ১৯৩০ প্রথম ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ল্যান্সলট হগবেন এই ব্যাঙটির জীবনে বড় ধরনের এক পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়। তিনি এই ব্যাঙটির শরীরে তিনি ইনজেকশন দিয়ে মানুষের মূত্র ঢুকিয়ে দিলেন।

ব্রিটিশ ওই প্রাণীবিজ্ঞানীর বিভিন্ন প্রাণির শরীরের নানা রকমের জিনিস, বিশেষ করে হরমোন ঢুকিয়ে দেওয়া। তার উদ্দেশ্য ছিল এর ফলে ওই প্রাণির শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া ঘটে তা পরীক্ষা করে দেখা। অনেকটা দুর্ঘটনাবশতই, তিনি আবিষ্কার করে ফেললেন যে এই ব্যাঙের ভেতরে প্রেগনেন্সি হরমোন ঢুকিয়ে দিলে সেটি ডিম পাড়তে শুরু করে দেয়।

পরীক্ষাটি যেমন ছিল

নারী জেনোপস ব্যাঙের চামড়ার নিচে ইনজেকশনের মাধ্যমে নারীর মূত্র ঢকিয়ে দেওয়া হতো। ৫-১২ ঘন্টা পর দেখা হতো ব্যাঙটি ডিম পেড়েছে কিনা। ডিম পাড়লে নিশ্চিত হওয়া যেত যে ওই নারী গর্ভবতী। খুব নিখুঁতভাবেই পরীক্ষাগারে এই প্রেগনেন্সি টেস্ট করা হতো।

তবে এখন প্রেগনেন্সি টেস্ট খুবই সহজ। একজন নারী খুব সহজে ঘরে বসেই জানতে পারছেন তিনি গর্ভবতী কিনা। কিন্তু কয়েক দশক আগেও এই কাজটা যথেষ্ট কঠিন ছিল।

চিকিৎসা-ইতিহাসবিদ জেসে ওলসজিঙ্কো-গ্রিন বলেন, আধুনিক যুগের এসব প্রেগনেন্সি টেস্ট খুব সহজ মনে হতে পারে। তবে ১৯৩০-এর দশকে ব্যাঙের মাধ্যমে প্রেগনেন্সি টেস্ট ছিল বড় ধরনের ঘটনা। এখন কেউ গর্ভবর্তী কিনা তা বাড়িতে পরীক্ষা করেই দেখা যায়।

তিনি বলেন, তবে ঘরে বসে প্রেগনেন্সি টেস্ট এখন মানুষের সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ১৯৭০ এর দশকেই বাড়িতে বসে প্রেগনেন্সি টেস্টের উপায় বের হলো। এর পর থেকেই জেনোপস ব্যাঙ ফিরে গেল তার শান্তিপূর্ণ জীবনে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here