ডিআইজি মিজানকে খুঁজে পাচ্ছে না দুদক টিম

0
33

পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি ও অবৈধ সম্পদ এবং মানি লন্ডারিং মামলার আসামি মিজানুর রহমানকে অবশেষে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন । রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তার সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জারি করেছে বলে মঙ্গলবার রাতে নিশ্চিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। কী কারণ দেখিয়ে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তা এখনও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানান, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকালীন তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি মিজানকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হবে।

তাছাড়া পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে । এর আগে গত ১৯ জুন ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে- এমন তথ্য সাংবাদিকদের দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করে বঙ্গভবনে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানায়, ডিআইজি মিজানকে খুঁজে পাচ্ছে না দুদক টিম। সোমবার মামলা রুজুর পর থেকেই তিনি লাপাত্তা। তার খোঁজে দুদকের একাধিক টিম কাজ করছে। তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তিনি দেশ ছেড়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

আরও জানা যায়, ডিআইজি মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না ওরফে রত্না রহমান (দুদকের মামলায় আসামি) ২৪ জুন রাতে দেশত্যাগ করেছেন। তিনি কীভাবে কোন ফ্লাইটে দেশ ছাড়লেন, তা জানতে চেয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার দুপুরে ডিআইজি মিজান ও দুদক পরিচালক এনামুল বাছিরের মধ্যে ঘুষ লেনদেনের কথোপকথনের অডিওর ফরেনসিক পরীক্ষার ফল দুদকের কাছে উপস্থাপন করেছে এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার) বলে সূত্র জানায় । এতে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের টিম উপস্থিত ছিল।

এনটিএমসির পক্ষ থেকে মিজান-বাছিরের টেলিফোনে কথোপকথনের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করেন । সেখানে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঘুষ লেনদেনের ঘটনার অনুসন্ধান টিমের প্রধান দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, আমাদের চেয়ারম্যানসহ ১০ সদস্যের টিম এনটিএমসি দফতরে উপস্থাপিত ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করেছি। এতে আমরা সন্তুষ্ট। শিগগির এ প্রতিবেদনটি দুদকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবে এনটিএমসি।

এ ছাড়া ডিআইজি মিজানের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিতসহ সেটি সরকারি হেফাজতে নেয়ার জন্য ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ। অপর একটি অনুসন্ধান টিম দুদকের পরিচালক (সাময়িক বরখাস্ত) খন্দকার এনামুল বাছিরের বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের কাছে আবেদন করেছে।

দুদক মামলা করতে যাচ্ছে- এমন সংবাদ পাওয়ার পরপরই ডিআইজি মিজান বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেন বলে সূত্র থেকে জানা যায়। শুধু তাই নয়, ২৩ জুন তিনি বায়তুল মোকাররম আমিন জুয়েলার্স থেকে ২৬ লাখ টাকার স্বর্ণ কিনেছেন। তিনি নিজেই ওই স্বর্ণ খরিদ করেন।

এদিকে নয়াপল্টনে হোটেল ভিক্টরিতে ডিআইজি মিজানের সাথে গোপন মিটিংয়ে অংশ নেয়া দুদকের সাবেক পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ডিআইজি মিজান ও পরিচালক এনামুল বাছিরের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় গঠিত অনুসন্ধান টিম তাকে শিগগির নোটিশ করবে বলে জানা যায়।

ওই গোপন মিটিংয়ে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ২৮(গ) ধারায় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের টিমকেই ওই অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়।

অন্যদিকে ডিআইজি মিজানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলাটি মঙ্গলবার থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিমকে এ তদন্তভার দেয়া হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ডিআইজি মিজানসহ যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত নেবে তদন্ত টিম। ওই টিম প্রয়োজনে যেসব স্থানে যাওয়া দরকার, সেসব স্থানে যাবে। যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে। দুদক মুখ দেখে নয়, দুর্নীতির ঘটনা দেখেই তদন্ত করবেন।

বহু নাটকীয়তার পর সোমবার ডিআইজি মিজানুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অপর তিন আসামি হলেন- মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না ওরফে রত্না রহমান, ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসান।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তিন কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং আইনের ৪(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলাটি দুদকের ঢাকা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে দায়ের করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here