শেখ হাসিনার ট্রেনে হামলা: ৯ জনের ফাঁসি ও ২৫ জনের যাবজ্জীবন

0
48

২৫ বছর আগে পাবনার ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনবহরে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছে । এতে ৯ আসামির ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। একই মামলায় ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে । এ ছাড়া ১৩ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে।

পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মো. রোস্তম আলী বুধবার বেলা ১২টার দিকে এ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন । রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম হাসনাত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ।

রায় ঘোষণার সময় মামলার ৫২ আসামির মধ্যে জীবিত আছে ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিরা সবাই ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ।

প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে রয়েছে- ঈশ্বরদীর সাবেক পৌর মেয়র ও বিএনপি নেতা মোখলেসুর রহমান, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান সহ আরও অনেকে ।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম হাসনায়েন ও পিপি আক্তারুজ্জামান মুক্তা। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার সরকার এবং অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার।

জানা গেছে, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচিতে ট্রেনবহর নিয়ে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে তাকে বহনকারী ট্রেনবহর যাত্রাবিরতি করলে ওই ট্রেন ও শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল । এ ঘটনায় দলীয় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে শেখ হাসিনা দ্রুত ঈশ্বরদী ত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে এ মামলাটি হয় ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। ঈশ্বরদী রেলওয়ে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এ ঘটনায় প্রথমে বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ সাতজন আসামি থাকলেও পরবর্তীতে সিআইডি অধিকতর তদন্ত শেষে মোট ৫২ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেয়। এদের মধ্যে গত ২৫ বছরে ৫ জন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। ৩২ জন কারাগারে, বাকি ১৫ জন এখনও পলাতক।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর পুলিশ মামলাটি পুনঃতদন্ত করে। তদন্তশেষে নতুনভাবে ঈশ্বরদীর শীর্ষস্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এ মামলার আসামি করা হয়।

মামলাটির সময় পুলিশ কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্টও দাখিল করে। কিন্তু আদালত সে রিপোর্ট গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করেন । পরে সিআইডি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here