আজ শুরু ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের মহাযুদ্ধ

0
47

‘ইটস কামিং হোম’- ফুটবল হোক বা ক্রিকেট, বিশ্বকাপের আগে থেকেই একই স্লোগান ওঠে ইংল্যান্ডে। মানে বিশ্বকাপ ফিরবে তার আঁতুড়ঘরে। ফুটবল এবং ক্রিকেট দুটি খেলারই জন্ম ইংল্যান্ডে।

ফুটবলে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ ট্রফি তারা জিতেছে সেই ১৯৬৬ সালে। এর পর থেকেই এক বুক আক্ষেপ ও প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা ‘ইটস কামিং হোম’। আজও হয়নি ফুটবলে সেই অপেক্ষার অবসান ।

ক্রিকেটের গল্পে দীর্ঘশ্বাসের পাল্লা আরও ভারি। খেলাটার মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপেরও যাত্রা শুরু ইংল্যান্ডের মাটিতে। প্রথম তিনটি আসরই (১৯৭৫, ১৯৭৯ ও ১৯৮৩) ইংল্যান্ডে হওয়ায় ক্রিকেট বিশ্বকাপকে একসময় বলা হতো বিলেতি বিশ্বকাপ।

সব মিলিয়ে এর আগে চারবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে ইংল্যান্ড। খেলেছে আগের ১১টি আসরেই। কিন্তু আরাধ্য ট্রফি জেতা হয়নি কখনই। তিনবার খুব কাছে গিয়েও ফিরতে হয়েছে শূন্য হাতে।

৪৫ বছর ধরে এই আক্ষেপ বুকে নিয়ে ঘুরছে ইংলিশরা। দু’দশক পর আবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফিরেছে তার জন্মভূমিতে। এবার কি ইংলিশদের ট্রফির আক্ষেপ ঘুচবে? এ প্রশ্ন সামনে রেখেই ক্রিকেট মহাযজ্ঞের দ্বাদশ আসরের পর্দা উঠছে আজ ইংল্যান্ডে।

লন্ডনের বিখ্যাত ভেন্যু দ্য ওভালে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে আজ শুরু হচ্ছে ১০ দলের ক্রিকেট শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। একই ভেন্যুতে আগামী ২ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান।

১০ দল, ৪৬ দিন ও ৪৮ ম্যাচের এই মেগা টুর্নামেন্ট শেষ হবে ১৪ জুলাই লর্ডসের ফাইনাল দিয়ে। সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মোট ১১টি ভেন্যুতে খেলা হবে। অধিকাংশ ম্যাচই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে।

শুধু সাতটি ম্যাচ মাঠে গড়াবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে। আগামী দেড় মাস তিন কাঠির রোমাঞ্চে বুঁদ হয়ে থাকবে ক্রিকেটবিশ্ব। তবে ফুটবলের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপের উন্মাদনা গোটা গ্রহকে আন্দোলিত করে না। কারণ ক্রিকেটের আবেদন ফুটবলের মতো বৈশ্বিক নয়। ফুটবল বিশ্বকাপে নিখাদ দর্শকের ভূমিকায় থেকেও তুলকালাম ঘটে যায় বাংলাদেশে।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকায় ছেয়ে যায় গোটা দেশ। অথচ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সরব উপস্থিতির পরও সেই বুনো উন্মাদনা চোখে পড়ে না। এর মানে অবশ্য এই নয় যে, এ দেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। ব্যাপারটা বরং উল্টো।

ফুটবল বিশ্বকাপে একেকজন একেক দলকে সমর্থন করায় চায়ের কাপে ঝড় তোলার অনেক অনুষঙ্গ মেলে। কিন্তু গত দু’দশক ধরে ক্রিকেট বিশ্বকাপে নিজেদের জাতীয় দলের প্রতিই থাকে গোটা দেশের শর্তহীন সমর্থন।

এই একটি ক্ষেত্রেই বিভেদের সব রেখা মুছে এক হতে পারে বাংলাদেশ। ফুটবল বিশ্বকাপের মতো পতাকা, জার্সি নিয়ে উন্মাদনা না থাক, ১৬ কোটি মানুষের হৃদয়ের ক্যানভাসজুড়ে থাকবে শুধু লাল-সবুজ।

যেখানে বিশ্বকাপ হচ্ছে সেই ইংল্যান্ডেও ক্রিকেটপ্রেমীদের বাইরে বিশ্বকাপ নিয়ে তেমন হেলদোল নেই আমজনতার। তবে ক্রিকেটপ্রেমীরা এবার বড় আশাতেই বুক বেঁধেছে। ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর আর কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোতে না পারা ইংল্যান্ড যে এবার স্বপ্ন দেখছে বিশ্বজয়ের।

২০১৫ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে বিদায়ের পর নিজেদের খেলার ধরনই পাল্টে ফেলেছে ইংল্যান্ড। হয়ে উঠেছে মারকাটারি ক্রিকেটের সমার্থক। দুই বিশ্বকাপের মাঝে ৩৮টি তিনশ’ ছাড়ানো স্কোর উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ড।

টর্নেডো ব্যাটিংয়ে নিয়ত রেকর্ডের পাতা রাঙিয়ে উঠে এসেছে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে। সম্ভাব্য স্বাগতিকরাই তাই পাচ্ছে হট ফেভারিটের মর্যাদা।

ফেভারিটের তালিকায় ইংল্যান্ডের পরই রয়েছে বিরাট কোহলির ভারত ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। আসরের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল ভারত। আর রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া উজ্জীবিত নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের প্রত্যাবর্তনে।

এই তিনটি দল পরিষ্কার ফেভারিট হলেও শিরোপার দাবিদার কার্যত সবাই। রাউন্ড রবিন ফরম্যাটের কারণে লিগ পর্বে ১০টি দলই একে অপরের মুখোমুখি হবে। প্রতিটি ম্যাচই তাই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

লিগ পর্বের সেরা চার দল পাবে সেমিফাইনালের টিকিট। মোটা দাগে রুগ্ন শ্রীলংকা ছাড়া সব দলই সেই টিকিটের জন্য ঝাঁপাবে। নবীন আফগানিস্তানও চোখ রেখেছে সেমিফাইনালে। গত আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা বাংলাদেশ অনুচ্চারে বুনছে শিরোপা স্বপ্ন।

আসরের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল এবার বাংলাদেশ। পঞ্চপাণ্ডবের সাথে আছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। সেমিফাইনাল তো বটেই, ফাইনালে খেলাও অসম্ভব নয় বাংলাদেশের জন্য। তবে কাজটা যে সহজ নয় তা বলাই বাহুল্য। আর ইংল্যান্ড, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও শক্তিধর দল রয়েছে অনেক।

বিগ হিটারে ঠাসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ চেনা সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে। অননুমেয় পাকিস্তানকে নিয়েও আগে থেকে কিছু বলা যাচ্ছে না। গত আসরের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড সাধারণত সেমিফাইনালের আগে বিদায় নেয় না।

দক্ষিণ আফ্রিকাও কিউইদের মতো এবার সেভাবে আলোচনায় নেই। প্রত্যাশার চাপ কম থাকায় ‘চোকার’ প্রোটিয়ারা ঘটিয়ে ফেলতে পারে নীরব বিপ্লব। সবকিছু মিলিয়ে লড়াই এবার উন্মুক্ত। স্বপ্ন দেখতে কারও নেই মানা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here