জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ

0
33

আফগানিস্তানের ক্রিকেটারদের কোণঠাসা করে ফেলেছে টাইগাররা। ২৬৩ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২ উইকেটে ১০৪ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। এরপর শূন্য রানের ব্যবধানে দুই উইকেট শিকার করেন সাকিব আল হাসান। তার বোলিং নৈপুণ্যে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে দারুণ সূচনা করেন আফগান দুই ওপেনার রহমত শাহ ও গুলবাদিন নাইব। অনবদ্য ব্যাটিং করে যাওয়া নাইব-রহমত শাহর জুটি ভাঙেন সাকিব। তার আগে ওপেনিং জুটিতে ১০.৫ ওভারে ৪৯ রান যোগ করেন তারা। সাকিবের বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে ৩৫ বলে ২৪ রান করেন রহমত শাহ।

লিটন দাসের বিতর্কিত ক্যাচ নিয়ে সমালোচিত হয়েছেন হাসমতউল্লাহ শহীদি। আফগানিস্তানের এই ক্রিকেটারকে ব্যাটিংয়ে সফল হতে দেননি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মোসাদ্দেকের বলে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পিং হয়ে সাজঘরে ফেরেন হাসমতউল্লাহ। তার বিদায়ে ২০.৫ ওভারে ৭৯ রানে দুই উইকেট হারায় আফগানরা।

বাংলাদেশ ২৬২/৭

মুশফিকুর রহিম এবং সাকিব আল হাসানের জোড়া ফিফটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২৬২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে আফগানদের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই টাইগারদের।

সোমবার ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটনে বিশ্বকাপের ৩১তম ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই লিটন দাসের উইকেট হারায় টাইগাররা। দলীয় ২৩ রানে লিটন সাজঘরে ফেরার পর হাল ধরেন সাকিব-তামিম।

বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে সাকিব-তামিম সাবধানি ব্যাটিং করে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। তাদের জুটিতে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখেছিল টাইগার সমর্থকরা। কিন্তু দলীয় ৮২ রানে মোহাম্মদ নবীর ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন তামিম ইকবাল। তার আগে ৫৩ বলে ৩৬ রান করেন দেশসেরা এ ওপেনার।

তামিম আউট হলেও অনবদ্য ব্যাটিং করে যান সাকিব আল হাসান। তৃতীয় উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে ৬১ রানের জুটি গড়েন সাকিব। আর এই জুটিতেই ফিফটির পর মুজিব-উর-রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাকিব। তার আগে ৬৯ বলে ৫১ রান করেন তিনি। আর এই রান করার মধ্য দিয় এবারের বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে ৪৭৬ রান নিয়ে শীর্ষে উঠে যান বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার।

সাকিবের বিদায়ের পর সুবিধা করতে পারেননি সৌম্য সরকার। ওপেনিংয়ের পরিবর্তে পাঁচ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৩ রানে ফেরেন সৌম্য। দলীয় ৩২ ওভারে ১৫১ রানে লিটন দাস, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকারের উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে ৫৬ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। উইকেটে সেট হয়ে যাওয়ার পর নিজের ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি রিয়াদ। গুলবাদিন নাইবের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে ৩৮ বলে দুটি চারের সাহায্যে ২৭ রান করেন মাহমুদউল্লাহ।

তবে লিটন-তামিমের বিদায়ের পর ১৮তম ওভারে ব্যাটিংয়ে নামা মুশফিক শুরু থেকেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন। সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৬১ ও ৫৬ রানের জুটি গড়া মুশফিক, ষষ্ঠ উইকেটে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে ৪৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন ।

অন্যবদ্য ব্যাটিং করে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন মুশফিক। কিন্তু ইনিংসের শেষ দিকে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে দৌলত জাদরানের বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তার আগে ৮৭ বলে চারটি চার ও এক ছক্কায় ৮৩ রান করে ফেরেন মুশফিক। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে ৩৫ রান করেন মোসাদ্দেক। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬২ রান তুলতে সক্ষম হয়েছেন টাইগাররা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬২/৭ (মুশফিক ৮৩, সাকিব ৫১, তামিম ৩৬, মোসাদ্দেক ৩৫, মাহমুদউল্লাহ ২৭, লিটন ১৬; মুজিব-উর ৩/৩৯)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here